শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ০৬:১০ পূর্বাহ্ন

পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি ভাব সম্প্রসারণ

পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি ভাব সম্প্রসারণ

বাংলা ২য় পত্র | ভাবসম্প্রাসারণ

পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি

সৌভাগ্য লাভ করতে কেই বা না চায়। তবে মানবজীবন কোনো পুষ্পশয্যা নয়। এখানে সৌভাগ্য লাভ করতে চাইলে একনিষ্ঠ সাধনা ও নিরলস পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই। পরিশ্রমের মাধ্যমেই ভাগ্যকে নিজের অনুকূলে আনা সম্ভব।

পৃথিবীর প্রতিটি কাজের পিছনে রয়েছে শ্রমের অবদান। কোটি কোটি মানুষের শ্রমের ফলেই মানবসভ্যতা আজ এই পরিস্থিতিতে আসতে সক্ষম হয়েছে ৷ মা যেমন সন্তানের জন্মদাতা, পরিশ্রমও ঠিক তেমনিভাবে সৌভাগ্যের জন্মদাতা। আমাদের আশেপাশের অনেক মানুষকেই দেখা যায়, যারা মনে করেন সৌভাগ্য পুরোপুরিভাবে ভাগ্যের ব্যাপার। ভাগ্যের চাকা ঘুরলে গরিবের রুগ্ন কুঁড়েঘরও বিশাল রাজপ্রাসাদে পরিণত হতে পারে। অনেক সময় তারা তাদের এরকম তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করতে ধর্মের দোহাইও দিয়ে থাকেন। তবে বাস্তবে এমনটি কখনোই ঘটে না। এমনকি ধর্মও মানুষকে পরিশ্রম করে যেতে বলেছে ৷ ধর্মগ্রস্থে স্পষ্টতই উল্লেখিত আছে, ‘মানুষের জীবনে শ্রম ব্যতীত কিছুই নেই।’ আবার কবিতাতেও আছে, ‘পরিশ্রমে ধন আনে, পূণ্য আনে সুখ।’ বস্তুত শ্রমবিমুখ জাতি বা ব্যক্তি কখনোই সফল হতে পারেনি। অলসতা তাদেরকে অমানিশার ঘোর অন্ধকারে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ফেলে। ইতিহাসে নজর দিলেই এমন হাজারো উদাহরণ আমাদের নজরে আসবে। পৃথিবীতে যত জাতি সফলতার স্বর্ণচূড়ায় আরোহন করেছে, তারা সবাই কর্মঠ ও পরিশ্রমী। মনীষীদের জীবন পর্যালোচনা করলেও আমরা তেমনি চিত্রের সন্ধান পাই। পক্ষান্তরে অলস ও অকর্মঠ ব্যক্তি ও জাতির ইতিহাসে কেবলই স্থান পেয়েছে দুর্ভাগ্য আর হতাশা। কালের গর্ভে এভাবেই হারিয়ে গিয়েছে হাজারো সভ্যতা।

মানুষ নিজেই তার ভাগ্যের নির্মাতা। কর্মের মাধ্যমেই সে বয়ে আনতে পারে সৌভাগ্য ও অনাবিল আনন্দ।

আপনার ফেসবুকে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved : Chalo Paltai 2018-19
© ২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত PJM1337