শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ০৫:৩১ পূর্বাহ্ন

মায়েদের কান্না যেমন হয়…

মায়েদের কান্না যেমন হয়…

অলংকরণ : তুলি । ছবি : প্রথম আলো থেকে সংগৃহীত।

আমার বয়স তখন আর কতোই বা হবে । ক্লাস টুতে পড়তাম । সঙ্গী-সাথীদের সঙ্গে খেলাধুলা আর আনন্দ-ফুর্তি নিয়ে দিনগুলো ভালোই কাটতো । তবে এলাকায় কোনো বড় ঘটনা ঘটলে দলবদ্ধভাবে সেটি দেখতে যাওয়ার রেওয়াজটা আমাদের মধ্যেও ছিল । নরসিংদীর পলাশের ইউরিয়া সার কারখানা কলোনীতে আমার শৈশবের দারুণ কিছু সময় এভাবেই কেটেছে ।

কারখানার পাশ দিয়েই বয়ে গিয়েছে শীতলক্ষা নদী । সেখানে প্রতিদিনই দলবদ্ধভাবে কিশোর-যুবকদের সাঁতার কাটতে দেখা যেত । নদীর বুকে একদিকে বয়ে চলা নৌকা আর আরেকদিকে কিশোর-যুবকদের সাঁতার – এক কথায় ছবির মতো দৃশ্য ছিল । তবে ঐদিনের ঘটনার পর বেশকিছু দিন এমন দৃশ্যের আর অবতারণা হয়নি ।

যেহেতু একটি কারখানা চালাতে প্রচুর পানির প্রয়োজন হয়, তাই সে কাজে বড় কোনো উৎসের প্রয়োজন পড়ে । এক্ষেত্রে ইউরিয়া সার কারখানার পানির উৎস ছিল শীতলক্ষা নদী । নদীর মধ্যে দানবীয় আকারের ওয়াটার পাম্প দিয়ে পানি তোলা হতো ৷ ঐদিন কলোনীর একদল বড় ভাইয়েরা নদীতে সাঁতার কাটছিলেন, তখন দুর্ভাগ্যক্রমে কয়েকজন সেই দানবীয় যন্ত্রের কাছাকাছি এসে পড়েন । ওয়াটার পাম্পের প্রচন্ড শক্তির সামনে পরাস্ত হয়ে সলিল সমাধি হয়ে যায় তিনজনের ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মাধ্যমে মুহূর্তেই পুরো এলাকায় এই দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে যায় ৷ খবর দেওয়া হয় উদ্ধারকর্মীদের । কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ । প্রায় কয়েক ঘন্টার প্রচেষ্টায় অবশেষে লাশগুলো উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় কলোনীর হাসপাতালে । এরপর ধীরে ধীরে হাসপাতালে বাড়তে থাকে উৎসুক জনতার ভিড় ৷ কিছুক্ষণের মধ্যে আমরাও দলেবলে গিয়ে হাজির হলাম সেখানে । এমন সময়ে রীতিমতো ছুটে আসছিলেন নিহতের আত্নীয়-স্বজনেরা ।

একজন নিহত বড় ভাইয়ের মাও সে সময় কাঁদতে কাঁদতে নিজের ছেলের নিথর দেহখানি দেখতে আসেন । তাঁর কান্নার শব্দে ভারী হয়ে উঠেছিল বাতাস । আসলে মায়ের কান্না অন্যসব কান্নার চেয়ে আলাদা হয় । মায়েরা যখন কাঁদেন তখন বুক উজাড় করে কাঁদেন । কান্নার মধ্যেই তাঁর মুখ থেকে বেরিয়ে আসল, ‘কই, আমার ছেলেটা কই?’

আপনার ফেসবুকে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved : Chalo Paltai 2018-19
© ২০১৮ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত PJM1337