ফেসবুকের আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসার উপায়

0
242

পুরো বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো নিঃসন্দেহে দারুণ একটি এ্যাপ্লিকেশন । এসব এ্যাপ্লিকেশনের সু্বাদে পরিবার-পরিজন, বন্ধ-বান্ধবদের সঙ্গে আমরা যেকোনো সময়েই যুক্ত হতে পারি । সেক্ষেত্রে তাঁরা পাশের গলিতে আছে না বিশ্বের অন্য প্রান্তে আছে – সেটা তেমন বিষয় না । তাঁদের আমরা একদম যেন সামনাসামনিই পাচ্ছি । তবে প্রকৃতির অপরিবর্তনীয় নীতি হচ্ছে – সবকাজের ক্ষেত্রেই একটি নির্দিষ্ট সীমার মাঝে থাকা উচিত। এর বাইরে গেলেই বয়ে আসবে বিপত্তি।

                                                                                                                                                                             

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয় এখন অনেকেই মাত্রাতিরিক্ত সময় দিয়ে ফেলছেন। এতে তাঁর দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নানাবিধ সমস্যা তৈরি হচ্ছে । গবেষকরা নিখুঁত পরিক্ষা-নিরীক্ষার পর দেখতে পেয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো যারা অতিরিক্ত ব্যবহার করেন, তাদের মধ্যে ডিপ্রেশনে ভোগা বা মানসিক অবসাদগ্রস্থতার হার খুব বেশি । এছাড়াও পরিবার ও নিকট বন্ধু-বান্ধবদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হওয়া থেকে দাম্পত্য কলহের মতো ব্যাপার স্যাপার তো আছেই । এ কারণে প্রযুক্তির এই দারুণ দিকটির সঙ্গেই আজ ‘আসক্তির’ মতো মারাত্নক শব্দটির ব্যবহার হচ্ছে । আশার কথা হলো , সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোয় আসক্ত ব্যক্তিদের অনেকেই এই আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছেন ।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও বাস্তব জীবনের নানান অভিজ্ঞতা অবলম্বনে এই আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্যই রইলো আজকের এই প্রতিবেদন :-

  • আপনি যদি ইতোমধ্যেই আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য মনস্থির করে ফেলে থাকেন, তবে আপনি ৫০ শতাংশ কাজ করে ফেলেছেন। এখন প্রয়োজন শুধু কিছু রুটিন অবলম্বন করা।
  • সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কতোটা সময় ব্যয় করছেন, তার একটি হিসাব তৈরি করুন। এবার ঐ সময়টুকুতে দরকারি আর কি কি কাজ করতে পারতেন তা বের করুন। যেমন – পড়াশোনা করা পরিবারকে সময় দেওয়া, বাইরে কোথাও ঘুরতে যাওয়া ইত্যাদি। এবার সেই হিসাব অনুযায়ী কাজগুলো করার চেষ্টা চেষ্টা করুন ।
  • অপ্রয়োজনীয় মানুষদের সময় দেওয়া বন্ধ করুন। যাদের বাস্তব জীবনে কোনো দরকার নেই বা যারা বাস্তবে বন্ধু হওয়ার যোগ্য নয়, তাদের বন্ধু না বানানোই ভালো। ম্যাসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপের মতো ম্যাসেজিং সাইটেও এসব অপ্রয়োজনীয় সঙ্গ ত্যাগ করুন। প্রয়োজনে অবসরে জীবনের অতীত অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলিয়ে বের করুন কারা আপনার প্রকৃত বন্ধু।
  • একটা নির্দিষ্ট টার্গেট রাখুন। এই কাজ করার পর আমি ফোন ধরবো। ছাত্রদের জন্য সবচেয়ে ভালো হবে যদি তারা পড়ার রুমে কোনো ফোন না রাখে।
  • এরপরও যদি আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে না পারেন, তবে ভালো কোনো মনোরোগ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। তাঁরা আপনাকে যথাযথ কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে এরকম আসক্তি বা হতাশা থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করবেন । প্রতি সপ্তাহে একদিন করে যদি চিকিৎসকের সাথে দেখা করেন, তাহলে মাসখানেকের মধ্যেই এ ধরনের সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব । চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে ডাক্তার কাউন্সিলিংয়ের পাশাপাশি ওষুধ গ্রহণের পরামর্শও দিতে পারেন।

প্রতিবেদক : শাফিন হাসান।

LEAVE A REPLY